একাত্তরের টুকরো স্মৃতি
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম কবি আল মাহমুদ।
তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোল্লাবাড়িতে বাংলা সাহিত্যের জন্য আশীর্বাদ হয়ে জন্মেছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি সময়ে পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকায় আল মাহমুদ বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের একজন অন্যতম স্রষ্টাও। অপরদিকে আল মাহমুদ আবহমান বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ রূপকার। তার সৃষ্টির পরিধি এতো বিশাল ও ব্যাপক যে, তাকে একজন যুগস্রষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করলেও অতিরঞ্জিত হয় না।সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।আল মাহমুদ আমার প্রিয় কবিদের একজন।একবার তিনি ১৯৭১ সালের কিছু স্মৃতির কথা বলছিলেন।নিম্নে তা আলোকপাত করা হল।
তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোল্লাবাড়িতে বাংলা সাহিত্যের জন্য আশীর্বাদ হয়ে জন্মেছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি সময়ে পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকায় আল মাহমুদ বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের একজন অন্যতম স্রষ্টাও। অপরদিকে আল মাহমুদ আবহমান বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ রূপকার। তার সৃষ্টির পরিধি এতো বিশাল ও ব্যাপক যে, তাকে একজন যুগস্রষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করলেও অতিরঞ্জিত হয় না।সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।আল মাহমুদ আমার প্রিয় কবিদের একজন।একবার তিনি ১৯৭১ সালের কিছু স্মৃতির কথা বলছিলেন।নিম্নে তা আলোকপাত করা হল।
" সেই সময়কার সব ঘটনায় আমার স্মৃতিতে ধূসর হয়ে এসেছে। কোনো একটি পূর্ণাঙ্গ ঘটনা এমন নেই যা আগে কোথাও না কোথাও বলিনি। বলতে গিয়ে কখনও শিউরে উঠেছি, কখনোবা আনন্দ ও খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে পড়েছি। আর এই মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে মনের কোণে গর্বের ডালপালা বিস্তার করতেও পিছপা হইনি। এখনও যখন সেই দিনগুলোর স্মৃতি আবছা হলেও মনের পর্দায় ভেসে ওঠে, তখন সত্যিই বেশ পুলকিত হয়ে উঠি; বেদনাহতও হই। বলতে গেলে একটা মানসিক অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্যে এই যুদ্ধ আমাকে ঠেলে নিয়ে যায়। অনেক মুখ মনে পড়ে কিন্তু কাহিনী মনে পড়ে না। তবে এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলনের সময়ই। বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে নকশালরা খুবই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ছিলেন। কারণ বাংলাদেশের লোকজনের ভিড়ে তারা তাদের মত প্রকাশ করার উপায় হারিয়ে ফেলেছিলেন। কোলকাতার মানুষ তখন বাংলাদেশী রিফিউজিদের উদ্বাস্তু আদরযতœ করে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে ওই সময়কার বিপর্যয়কে আত্মস্থ করতে চেষ্টা করেছিলেন। ফলে নকশালদের বক্তব্য শ্রবণ করার মানুষ অপেক্ষাকৃত কমই ছিল।
ওই সময়কার একটি ঘটনা আমার মনে পড়ছে। আমি এক কাপড়ে দেশ ছেড়ে কোলকাতায় চলে যাই, সেও আবার আগরতলা হয়ে গৌহাটি দিয়ে। আমার গায়ে তখন যে শার্টটি ছিল সেটি অপেক্ষাকৃত দামি ও সুন্দর ছিল। এটা পরেই আমি বাংলাদেশের পক্ষে মোটিভেশনের কাজ শুরু করি। নকশালরা আমার বিরোধিতা করতে থাকেন। একদিন কফি হাউজে অ্যালবার্ট হলে আমার শার্ট নিয়ে নকশালদের একটি কাগজে প্রবন্ধ ছাপা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে যে, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা ভিআইপিদের মতো শার্ট পরে কোলকাতা কফি হাউজে ঘুরে বেড়ায়।
এতে আমি প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠি। এবং প্রকাশ্যে একদিন শার্টের ওপর আমি বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলি – আমার এই একটিই শার্ট যা আমি দেশে পরতাম। আর কোনো কাপড় নেই আমার। এখন আমি কী করতে পারি! শার্টটি ত্যাগ করে খালি গায়ে আপনাদের সামনে আসতে তো পারি না।
আমার এ কথায় তখনকার সময়ে আমাদের বিরোধীরা হতভম্ব হয়ে যান। এরূপ বিরূপতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার মতো অনেককেই পড়তে হয়েছিল। আমাদের থাকার কোনো জায়গা ছিল না, খাওয়া-পরার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
আমার শার্টটি নিয়ে বহুদূর গড়িয়েছিল। পরে অবশ্য অনেকেই আমার ওই বক্তব্য শুনে নিজেরা লজ্জিত হয়েছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভেতরকার বহু বিষয় বহু হৃদয়বিদারক ঘটনা আপস ও কাপুরুষতার অনেক স্মৃতি আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। আমি অসুস্থ প্রায় অন্ধ একজন মুক্তিযোদ্ধা কবি। একাত্তরের ওই দিনগুলোর স্মৃতি বুকে ধারণ করে এখনও বেঁচে আছি। ইচ্ছা আছে সেসব নিয়ে একটা গ্রন্থ লেখার। জানি না কতটুকু কী করতে পারব, শুধু এতটুকু বলব আমি লেখার চেষ্টা করব।"
এবছরের (২০১২)একুশে বইমেলায় আল মাহমুদের উপন্যাস ‘বিবি মরিয়মের উইল’ প্রকাশিত হয়েছে আদর্শ প্রকাশনী থেকে।
উপন্যাস: বিবি মরিয়মের উইল
প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল
প্রকাশক: আদর্শ প্রকাশনী
মূল্য: ১০০ টাকা
প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল
প্রকাশক: আদর্শ প্রকাশনী
মূল্য: ১০০ টাকা

.jpg)
.jpg)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন