স্বাধীনতার মাসঃআমাদের অঙ্গীকার
ভূমিকাঃ
২৬শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।গৌরবদীপ্ত ও দুর্বিনীত সাহসী জাতি হিসেবে আমাদের কাছে দিনটি অনন্য সাধারণ ও স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ দিনটি শুধু পঞ্জিকার পাতায় কোনো জ্বলজ্বলে লাল তারিখ নয়, নয় কেবল চৈত্রের দগদগে রৌদ্রময় একটি দিন, বাংলাদেশী জাতির কিংবদন্তীতুল্য দেশপ্রেম, অবিরাম সংগ্রাম এবং সংহত শক্তিরও প্রতীক। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তির সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়।টানা নয় মাসের মরণপণ লড়াই ও সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের পর সাড়ে সাত কোটি মানুষ পেয়েছিলো নিজস্ব মানচিত্র, নিজের মতো করে একটি লাল-সবুজ পতাকা। অযুত জনতার আপোষহীন মনোভাব ও বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বতন্ত্র স্বাধীন জাতিসত্তায় বিশ্ববুকে অধিষ্ঠিত।
বাংলাদেশ ও এ জাতির পরাধীনতার শৃক্মখলমুক্ত হবার কৃতিত্ব কোনো বিশেষ ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার নয়। সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে সকল পেশা ও বয়সের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামে। শরীরের রক্ত ঝরানো ছাড়াও তাদেরকে সহ্য করতে হয়েছিলো বহু জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের অব্যক্ত যন্ত্রণা।আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিলো শুধু পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া নয়; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এ শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত চার দশকেও এসবের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ও এ জাতির পরাধীনতার শৃক্মখলমুক্ত হবার কৃতিত্ব কোনো বিশেষ ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার নয়। সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে সকল পেশা ও বয়সের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামে। শরীরের রক্ত ঝরানো ছাড়াও তাদেরকে সহ্য করতে হয়েছিলো বহু জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের অব্যক্ত যন্ত্রণা।আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিলো শুধু পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়া নয়; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এ শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত চার দশকেও এসবের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনতার অর্থঃ
আমরা
জানি যে স্বাধীনতা অর্থ স্ব-অধীনতা।অর্থাৎ চিন্তা-চেতনা ও কর্মপরিকল্পনায় প্রতিটি মানুষ বা রাষ্ট্ তার নিজস্ব বিশ্বাসে পরিচালিত হবে।স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকার। মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। স্বাধীনতা আল্লাহর দেয়া একক অফুরন্ত নেয়ামত।
আমাদের ব্যর্থতা:
দেখতে দেখতে আমরা স্বাধীনতার ৪১টি বছর অতিক্রম করতে চলেছি।আর এক দশক পরেই জাতীয় দিবসের অর্ধশতাব্দী পূর্ণ হবে। ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সুবর্ণ উৎসব পালন করা হবে।কিন্তু আমাদের অনেক আশা ছিল অনেক প্র্ত্যাশা ছিল যা আমরা কোনটাই
পাইনি।আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশি-বিদেশি চিহ্নিত অপশক্তির গভীর ষড়যন্ত্রে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। সীমান্তে প্রতিদিনই চলছে গুলি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিরীহ বাংলাদেশীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখছে কাঁটাতারের বেড়ায়। রাষ্ট্র ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে দেশের জাতীয় সম্পদ তুলে দেয়া হচ্ছে বিদেশিদের হাতে। ট্রানজিট দেয়ার নামে বিপন্ন করা হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দেশের আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে। সত্য বলার অপরাধে টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে গণমাধ্যমের। আইন উপেক্ষা করে শাস্তি দেয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের। অন্যদিকে শেয়ারবাজারকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে। সারাদেশে চলছে লাগামহীন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। নিরন্তর পরিশ্রম করেও মানুষ দুই বেলা আহার জোগাড় করতে পারছে না। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। কেউ কেউ এখন চার বেলা খায়। তবুও প্রতিবছর স্বাধীনতার মাস আমাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুন প্রেরণা।
স্বাধীনতার স্বরুপঃ
একটি রাষ্ট্রের জন্য জরুরি উপাদান চারটি : নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা, একটি সরকার, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণ। একটি রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য যেমন ভৌগোলিক সীমানা ও সার্বভৌমত্ব জরুরি তেমনি প্রয়োজন জনগণ ও সরকারের সুসম্পর্ক। আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের ধারণায় আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌম রাষ্ট্র বলতে বুঝি- রাষ্ট্রের ক্ষমতায় এমন সরকার অধিষ্ঠিত থাকবে যে সরকার জনগণ দিয়ে নির্বাচিত। সরকারের শাসন প্রণালীতে দেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে। দেশের জনগণ সরকার দিয়ে কোনো অন্যায়ের শিকার হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হবে। প্রতিটি মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানের নিশ্চয়তা পাবে। এটা হলো গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক। অধ্যাপক ব্রাউনির মতে, ‘প্রজাদের ওপর রাষ্ট্রের অর্পিত ও চরম ক্ষমতাই হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা।’ আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, ‘কারো যদি কোনো সমাজে কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন কারো প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করে কিন্তু সমাজের অধিকাংশ সদস্যের স্বভাবজাত আনুগত্য লাভ করে তবে সে সমাজে ঐ নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সার্বভৌম, এরূপ সমাজ রাজনৈতিক দিক দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম।’ বর্তমান বিশ্বে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র বলতে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বুঝি, যেখানে রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা এবং সরকার অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। এর সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। অর্থাৎ এখানে সরকার নির্বাচিত হয় জনগণের ভোটে। এমন একটি রাষ্ট্রে জনগণের তো সব ধরনের নিরাপত্তা এবং জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিশ্চিত হওয়ার কথা। সেখানে থাকার কথা জনগণের বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব রকম রাজনৈতিক স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানের রূঢ়বাস্তবতা হলো মানুষের সে মুক্তি এখনও আসেনি।
আমাদের অঙ্গীকারঃ
তিন যুগেরও অধিক সময় আমাদের অবস্থার কতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে তা খতিয়ে দেখলে হতাশা ছাড়া অন্যকিছু পাওয়া বেশ কষ্টকর। এ অবস্থায় সঙ্গত কারণেই দেশের মানুষ হতাশ। কিন্তু কেন এ হতাশা? এ জন্য দায়ী কারা? জনগণ এর সবই জানে। জানে বলেই এর থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজছে সবাই। কিন্তু কাঙ্খিত পরিবর্তনের উপায় সবার কাছে স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ জনগণই হন্যে হয়ে মুক্তির উপায় খুঁজছে- কিন্তু পাচ্ছে না। এ জন্য দেশের জনগণ এবং সুশীল সমাজ নানা রকম ব্যবস্থা উলটপালট করে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতেও কাঙ্খিত পরিবর্তন আসছে না। কোনো পথেই আসছে না মুক্তি- হচ্ছে না সমাধান। আসলে খোদাহীন সমাজব্যবস্থা এ সমস্যার সমাধান দিতে অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে ভবিষ্যতেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ বা সম্ভাবনা নেই।
ছয় ঋতুর অপার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অপরূপ আমাদের মাতৃভূমি, স্বাধীন সার্বভৌম এ বাংলাদেশ। স্বাধীনতার স্বাদ নিতে আমরা গভীর আগ্রহে স্বাধীনতা পরবর্তী ৪১টি বছর পার করতে চলেছি। সত্যিই কী আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি (!) যাই হোক, সেই বিতর্কে না গিয়ে আমরা আমাদের অঙ্গীকার
গুলো ব্যক্ত করি।
১।দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকে ভিত্তি করে জাতীয় রাজনীতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে।
২।আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং সবাধীনতার চেতনা ও ইতিহাস নিয়ে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি এবং মতানৈক্য রয়েছে তা দূরভীত করতে হবে।
৩।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার সাথে সম্পৃক্ত আরেকটি বড় বিভ্রান্তি হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাতীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ইসলামি চেতনা এবং মুসলমানিত্বের বিরুদ্ধে প্রদীপ্ত করার দৃষ্টিভঙ্গিগত রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা।এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
৪। জাতীয় সংসদকে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে।
৫।আমাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখন আর কোনো দলের নন, সমগ্র জাতির। অথচ বিভ্রান্তি ও হীনতার কারণে আমরা এই দুই মহান ব্যক্তিকে বিতর্কিত করছি, তাদের স্মৃতি ও কর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি এবং ফলে দেশে জাতীয় ঐকমত্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে জাতীয় বিভক্তিকে সম্প্রসারিত করছি। এই দুই জাতীয় নেতাকে আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত দলীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার অসুস্থ ও অযৌক্তিক রাজনৈতিক কসরৎ থেকে নিবৃত্ত না হবো ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। বাংলাদেশের অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের ইতিবাচক প্রভাব জনজীবনে কার্যকর করা যাবে না। আমাদের সবার মনে রাখা আবশ্যক যে স্বাধীনতা অর্জন তখনই সার্থক হয় যদি তা রক্ষা করা যায়, নতুবা নয়।
৬।আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে বহু জাতীয় ব্যক্তিত্বের নাম ও অবদান। তাদের মধ্যে রয়েছে রাজনীতিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিসেবী, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী, পেশাজীবী এবং দেশের সাধারণ জনগণ থেকে উঠে আসা অসাধারণ মানুষরা। দেশের নাগরিকদের জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কার্যকর করতে হলে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নব প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করতে হলে এসব ব্যক্তিত্বের সবার অবদানকেই প্রথমে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনীতি ও ইতিহাস চর্চায় তা ধারণ করতে হবে।
৭।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনাকে অবশ্যই হতে হবে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত। না হলে সেই ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস হবে না।
৮।আজকে জনগণকে প্রতারিত করার জন্য ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ বলে স্লোগান দেয়া হলেও জনগণ রাষ্ট্র কর্তৃক কি পরিমাণ নিগৃহীত হয় সে কথা কারো অজানা নয়। তারা না পায় বাকস্বাধীনতা, না পায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার। সবাই একই রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও আইন সবার জন্য সমান হয় না। ক্ষমতা যার আইন তার- এটাই আমরা দেখতে পাই।এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
৯।আজ আমরা অধিকার হারা, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে, কলকারখানায়, অফিস আদালতে এবং শিক্ষাঙ্গনে প্রায় সর্বত্রই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থার সয়লাব। সর্বত্র আমরা সন্ত্রাস, নির্যাতন ও জুলুমের শিকার। আজ চারদিকে চাঁদাবাজি, অপহরণ, টেন্ডারবাজি, নারী নির্যাতন, ডাকাতি, খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। নীতি-আদর্শ মুখ থুবড়ে পড়েছে, মনুষ্যত্ব আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সবাই আজ নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। লোভে পড়ে কোন অন্যায় করতে বিবেকে বাধে না। এভাবে আমাদের শরীরে বহমান মুক্তিযুদ্ধের রক্তকে আমরাই কলুষিত করে ফেলেছি। এই অবস্থার উত্তরণ
ঘটাতে হবে।
১০।‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’ এ নীতির ভিত্তিতে সরকারি এবং বিরোধী দল সবাই মিলে দেশ বাঁচানোর তাগিদে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
১১।আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।স্বাধীনতার ৪১ বছর পূর্তির এ শুভদিনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্য শপথ নিতে হবে। কারণ ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব।
১২।বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে,
আজ,
দুঃখজনকভাবে বড়ো অংশে জায়গা করে নিয়েছে অশিক্ষিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্ব,
এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বপ্নবলয়,
সন্ত্রাসবাদ আর দুর্নীতি। অভ্যন্তরীণভাবে অসততা-ক্ষমতা ও টাকার লোভ আর নীচতাকে আদর্শ হিসেবে মানতে যেন আজ আর আমাদের বাঁধে না। আবার,
অন্যদেশের ভাবধারা বা সাংস্কৃতিক আবহ আত্মস্থ করাকে পাপ বললেও সহজেই যেন মেনে নিচ্ছি বিদেশপ্রীতি আর অন্যদেশের চাটুকারিতার মোহান্ধতা।পরদেশের-অপরসংস্কৃতির বাধ্য অনুকরণে-অনুসরণের ঘোলাজলে নিরন্তর হাবুডুবু খাচ্ছি। উন্নয়ন আর অগ্রগতির ভাবনায় আমরা,
আজ,
খুব বেশি পরইচ্ছানির্ভর।এই
পরনির্ভরতা কমাতে হবে।
উপসংহারঃ
আমাদের অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমাদের জাতীয় জীবনে হাজারো সমস্যার সমাহার। জাতিকে সকল সমস্যা থেকে মুক্তি করতে পারলেই আমাদের স্বাধীনতা অর্থবহ হতে পারে। দেশকে দুর্নীতি থেকে রক্ষা করতে পারলে এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারলেই স্বাধীনতার গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখা যাবে। স্বাধীনতার মাসে এটাই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।

Top 20 videos by Top 10 YouTube Channel creators in 2021
উত্তরমুছুনTop 10 YouTube Channel creators · 5. Jingle · 4. Crazy Time · 3. youtube playlist to mp3 WatchMyOddity · 2. The Catfather · 1. Crazy Time · Free 2. Slingo · Free 2. Super